সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। নিজেদের পুঁজি ও আয়ের উৎস হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকের মাঠের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। আবার দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় পেঁপে বাগান ও বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেতও বিনষ্ট হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অতিভারী বৃষ্টিতে উপজেলার আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে চার ইউনিয়নে মোট ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট বন্যায় নিচু এলাকার ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে। এতে আমন ও আউশ ধান, বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসা, মরিচ, পেঁপে বাগানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমিতে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা, বীজ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের পেছনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাউসার উদ্দিন বাপ্পি, মো. বেলাল ও মো. আবছার জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাদের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। তারা বলেন, “ধারদেনা ও ঋণ করে সবজি ও পেঁপে চাষ করেছি। এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করব, জানি না। সরকার যদি আমাদের প্রণোদনা বা সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে আবার নতুন করে শুরু করতে পারব। বর্তমানে নতুন করে চাষাবাদ করার সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমরা এখন সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় আছি।”

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া পাড়া কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য মো. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, “আমার সমিতিতে ১০০ থেকে ১৫০ জন কৃষক রয়েছেন, যারা কৃষির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক অতিদরিদ্র। তারা ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু এই বন্যায় সবকিছু হারিয়ে গেছে। শুধু আমি নই, আমার মতো আরও কয়েকশ কৃষকের স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।”

এদিকে চারটি ইউনিয়নের কোন এলাকায় কত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি অধিদপ্তর তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা বলেন, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আলীকদমের কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মাঠের গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে, বীজতলা, আউশ ও আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রণোদনা, সবজির বীজসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।